বাধারঘাটে ফুটবল মাঠ, অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক, হকি মাঠের উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর


newsagartala24.com Images

আগরতলা, Apr 03, 2025, ওয়েব ডেস্ক থেকে 2025


 ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে নিরন্তর প্রয়াস জারি রেখেছে রাজ্য সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাজ্যের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের জন্য অত্যাধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এবারের রাজ্য বাজেটেও আর্থিক সংস্থান রাখা হয়েছে। 

                                বৃহস্পতিবার আগরতলার বাধারঘাটের দশরথ দেব স্পোর্টস কমপ্লেক্সে দেবভক্তি জমাতিয়া সিন্থেটিক অ্যাথলেটিক টার্ফ, স্বদেশপ্রিয় নন্দী সিন্থেটিক হকি গ্রাউন্ড ও প্রতুল ভট্টাচার্য সিন্থেটিক টার্ফ ফুটবল গ্রাউন্ডের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। উল্লেখ্য, রাজ্যের প্রয়াত তিনজন বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের নামে এই তিনটি মাঠকে উৎসর্গ করা হয়েছে এদিন।
                                 উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় শৃঙ্খলাপরায়ণ হয়ে থাকেন। বয়স হয়ে গেলেও তাদের দূর থেকে দেখে বোঝা যায় যে তারা ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ছিলেন। খেলাধুলার মধ্যেই জীবনের দর্শন খুঁজে পাওয়া যায়। রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব যথাক্রমে প্রয়াত দেবভক্তি জমাতিয়া, প্রয়াত স্বদেশ প্রিয় নন্দী এবং প্রয়াত প্রতুল ভট্টাচার্য্যের অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর যারা ত্রিপুরার নাম উজ্জ্বল করেছেন তাদের ইতিহাসে ধরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে আমবাসায় নির্মিত ২০০ শয্যার যুব হোস্টেল মধুসূদন সাহার নামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসবের মধ্যে একটা আত্মিক অনুভূতি চলে আসে। রাজনীতি এক জায়গায়, প্রশাসন এক জায়গায়। 

কিন্তু তাঁদের নামে যে ফুটবল গ্রাউন্ড, হকি গ্রাউন্ড, অ্যাথলেটিক গ্রাউন্ড আজকে হয়েছে সেটা আগামী প্রজন্মের কাছে অক্ষয় হয়ে থাকবে। 
                             মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের প্রতিভার বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধাযুক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিতে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে রাজ্যের সব জায়গায় ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অদম্য জেদ, ইচ্ছাশক্তি ও চেষ্টা থাকলে যেকোনও ক্ষেত্রে সাফল্য অবশ্যম্ভাবী। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছেন আমাদের রাজ্যের গর্ব পদ্মশ্রী অলিম্পিয়ান জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার। আর যুব সমাজকে নেশার আসক্তি থেকে দূরে রেখে সুস্থ সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে খেলাধুলা হচ্ছে অন্যতম মাধ্যম। কারণ সুস্থ মনই সুস্থ দেহ গঠনে সহায়ক।
                           মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, প্রাক্তন বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব যারা খেলাধুলার জগতে রাজ্যের সুনাম অর্জন করেছেন তাদের অবদানকে স্মরণ করা এবং তাদের যথাযথ সম্মান প্রদানে রাজ্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বিভিন্ন ক্রীড়া পরিকাঠামোসমূহ তাদের নামে উৎসর্গ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের সুবিধার জন্য আগরতলার ভোলাগিরিতে উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এছাড়া খেলাধুলার ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং রাজ্যের বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিদের সান্নিধ্যের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

                      অনুষ্ঠানে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায় রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মীনা রাণী সরকার, ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের পদাধিকারী সুকান্ত ঘোষ, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, অধিকর্তা এস বি নাথ, পদ্মশ্রী অলিম্পিয়ান জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার সহ দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ। অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রয়াত বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী।